মঙ্গলবার , আগস্ট ২১ ২০১৮
Breaking News
Home / জাতীয় খবর / ভিশন ২০২১ ও ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে এনআরবি নবপ্রজন্ম বিশেষ অবদান রাখতে পারে প্রয়োজন রেমিটেন্স থেকে নলেজ ট্রান্সপার পরিকল্পনা-একান্ত সাক্ষাৎকারে আইয়ুব করম আলী
for Call: 01741616874

ভিশন ২০২১ ও ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়নে এনআরবি নবপ্রজন্ম বিশেষ অবদান রাখতে পারে প্রয়োজন রেমিটেন্স থেকে নলেজ ট্রান্সপার পরিকল্পনা-একান্ত সাক্ষাৎকারে আইয়ুব করম আলী

শামীম আহমদ তালুকদার,ছাতক থেকে
বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ আইয়ুব করম আলী বৃটেনের বাঙ্গালী কমিউনিটিতে একটি সুপরিচিত নাম। একজন রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবী হিসেবে রয়েছে তার বেশ সুখ্যাতি। জন্ম সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক উপজেলার গোবিন্দগঞ্জ সৈদেরগাঁও ইউনিয়নের বুড়াইগাঁও গ্রামে। ১৯৭৩ সালে মাত্র ১১বছর বয়সে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপপ্ত করে স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্যে বৃটেনে চলে যান। ইংল্যান্ডের রাস্কিন কলেজ, অক্সফোর্ড ও ব্র“নেল ইউনিভারসিটি থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে উচ্চশিক্ষা গ্রহনের পর, ১৯৮২ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত টানা ২৮ বছর বৃটেনের স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন বিভাগে উর্ধতন কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০০৬ থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত লন্ডনের নিউহ্যাম কাউন্সিলের একজন নির্বাচিত কাউন্সিলার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন নিষ্টার সাথে। বিগত কয়েক বছর যাবত নিজ এলাকা ছাতকের গোবিন্দগঞ্জে ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ব্রীজ একাডেমী প্রতিষ্টার মাধ্যমে এলাকায় শিক্ষার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছেন। ১৯৯৩ সালে প্রতিষ্ঠিত ইউকে বাংলাদেশ এডুকেশন ট্রাষ্টের প্রতিষ্টাতা ট্রাষ্টি। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়নে গ্রহীত ইউরোপীয়ান ইউনিয়নের একটি প্রকল্পে ২০০১ থেকে টানা তিন বছর ডিরেক্টর পদে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ ২৫বছর বৃটেনের লেবার পার্টিতে একজন কর্মী ও সংগঠক হিসেবে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর যুক্তরাজ্যে যুবলীগে সক্রিয় ভূমিকা ও যুগ্মসাধারন স¤পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। যুক্তরাজ্য যুবলীগের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু হত্যর বিচারের জন্যে বৃটেনে সক্রিয়ভাবে আন্দোলন করেন। বিবাহিত জীবনে জনাব আইয়ুব করম আলী দুই ছেলে ও এক মেয়ের জনক, বড় ছেলে এডিনব্রা ইউনিভারসিটি থেকে অর্থনীতিতে ¯œাতক সমাপ্ত করে একজন ডেটা সাইনটিষ্ট হিসেবে কর্মরত, দিত্বীয় পুত্র মানচেষ্টার বিশ্ববিদ্যালয়ে ক¤িপউটার সায়েন্সে অধ্যয়নরত, একমাত্র মেয়ে সেকেন্ডারী স্কুলে অধ্যয়নরত, স্ত্রী হোসনে আরা আরী লন্ডনে একটি প্রাইমারী স্কুলের শিক্ষিকা। আইয়ুব করম আলী বিগত ৭/৮ বছর যাবত দেশে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন, নিজ গ্রাম (বুড়াইরগাঁও গোবিন্দগঞ্জে) অবস্থান করে ২০১২ সালে প্রতিষ্টিত তার ইংলিশ মিডিয়াম স্কুল ব্রীজ একাডেমীর দেখা শুনা সহ এলাকায় ২৫ কোটি টাকা ব্যায়ে ৫০শয্যা বিশিষ্ট একটি হাসপাতাল প্রতিষ্টার কাজ শুরু করেছেন, বর্তমানে হাসপাতালটির ভবন নির্মানের কাজ অনেকটা এগিয়ে গেছে, ২০২০সালে এটিকে পূর্ণাঙ্গ হাসপাতাল হিসেবে চালু করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। এই হাসপাতালটি চালু হলে ছাতকসহ আশপাশের কয়েকটি উপজেলার মানুষ উপকৃত হবে।
এ প্রতিবেদককে দেয়া একান্ত সাক্ষাৎকারে আইয়ুব করম আলী বলেন, অনেকেই আমাকে প্রশ্ন করেন বৃটেনের সফল ও আরাম আয়েশের জীবন ফেলে বাংলাদেশে কেন ফিরে আসলেন। তখন আমি বলি যদিও বৃটেনে আমার লেখাপড়া ও বেড়ে উঠা কিন্তু আমি নিজকে একজন বাঙ্গালী হিসেবে পরিচয় দিতে গর্ববোধ করি। বাংলাদেশ আমার মাতৃভ’মি এবং ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ আমার জন্মস্থান যা আমি কখনো ভুলতে পারিনা। তাই সিদ্ধান্ত নিয়েছি জীবনের বাকি সময়টুকু দেশের মাটিতে কাটাবো এবং সেখান থেকে যে শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা নিয়ে এসেছি তা এলাকার উন্নয়নে কাজে লাগাতে চাই। সাধারনত ইংরেজী মিডিয়াম স্কুলগুলো শহরে হয়ে থাকে এবং ধনীক শ্রেনীর ছাত্র/ছাত্রীরা সেখানে শিক্ষার সুযোগ পায়। আমি গোবিন্দগঞ্জে ব্রীজ একাডেমী প্রতিষ্টা করে ইংরেজী মাধ্যমের শিক্ষা গ্রামের সাধারন মানুষের ধারে প্রান্তে নিয়ে এসেছি। বর্তমানে এ প্রতিষ্টানে ২ শতাধিক ছাত্র/ছাত্রী পড়াশুনা করছে প্রায় সবাই আশে পাশের গ্রামের সাধারন পরিবারের ছেলে মেয়ে। ব্রীজ একাডেমীর মাধ্যমে এ অঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ইংরেজী মাধ্যমে পড়াশুনা করার স্বপ্ন পূরন হচ্ছে। বৃহত্বর সুনামগঞ্জের প্রায় ২৫লক্ষ লোককে উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট শহরে যেতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে রোগী শহরে পৌছানোর আগে রাস্তায় মারা যায়। গোবিন্দগঞ্জ হসপিটাল শুরু হলে এ ধরনের ঘটনা কমে আসবে এবং মানুষ বাড়ির কাছে সু- চিকিৎসা পাবে। আগামীতে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করে ছাতকের দক্ষীনে ও দোয়ারার উত্তরাংশে ছোট এবং মাঝারি দু’টি শিল্প প্রতিষ্টান গড়ে তোলে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করাও আমার একটি স্বপ্ন।
অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের এককোটিরও বেশী মানুষ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অবস্থান করছেন, দেশের উন্নয়নে তাদের অবদান খাটো করে দেখার সুযোগ নেই। তিনি বলেন দেশের উন্নয়নে এনআরবিদের স¤পৃক্ততা আরো শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে। গতবছর সিলেটে ব্রিটিশ বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স এন্ড ইন্ড্রাষ্টির (বিবিসিসিআই) এর আয়োজনে ও সিলেট চেম্বারের সহযোগীতায় ২১ থেকে ২৭ অক্টোবর অনুষ্টিত এনআরবি কনভেনশনে তার অশংনেয়া ও সেখানে এনআরবিদের ভূমিকা স¤পর্কে তিনি যে মতামত তুলে ধরেছেন সে স¤পর্কে আলোকপাত করে বলেন, একসময় আমাদের পূর্বপুরুষেরা বৃটেনে গিয়েছিলেন উন্নত জীবন যাপনের জন্যে। বিশেষ করে যারা ৬০ ও ৭০ এর দশকে গিয়েছিলেন তারা নিয়মিত দেশে রেমিটেন্স পাটিয়েছেন এবং এনআরবিদের রেমিটেন্সে দেশ সম্বৃদ্ধ হয়েছে। তিনি বলেন এনআরবিরা বছরে দেশে পাঠিয়ে থাকেন প্রায় ১৩বিলিয়ন ডলার, কিন্তু এখন দেশে রেমিটেন্স পাঠানোর প্রবাহ কমে যাচেছ। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এনআরবিদের রেমিটেন্স প্রবাহ অব্যাহত রাখতে ও দেশের উন্নয়নে ২য় এবং ৩য় প্রজন্ম ও ভবিষ্যৎ এনআরবিদের সরাসরি দেশের উন্নয়ন কর্মকান্ডে স¤পৃক্ত করতে হবে। এর মাধ্যমে দেশ যেমন উপকৃত হবে শেকড়ের সাথে প্রবাসীদের সন্তানদের স¤পর্কও অটুট থাকবে। তবে এখন থেকেই এর জন্যে প্রয়োজন রিমিটেন্স থেকে নলেজ ট্রেন্সপার পরিকল্পনা গ্রহন করা। তিনি ২০১০ সালের বৃটেনের সাসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক পরিচালিত একটি জরিপের পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন এই পরিসংখ্যানে দেখা গেছে ২০০২ সাল থেকে ২০১০ সাল পর্যন্ত বৃটেনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বছরে প্রায় সাত হাজার ব্রিটিশ বাংলাদেশী শিক্ষার্থী উচ্চশিক্ষা নিয়ে বের হয়েছে, প্রতিবছরই এসংখ্যা বাড়ছে, বর্তমানে এসংখ্যা দশ হাজারেরও বেশী। এরা বৃটেনের বিভিন্ন সেক্টরে কাজ করছে, এর মধ্যে রয়েছে আইটি ¯েপশালিষ্ট, ডাক্তার ইঞ্জিনিয়ারসহ প্রতিটি শাখা থেকে শিক্ষার্থীরা বের হচ্ছে, এরা খুবই দক্ষ। এদের বাংলাদেশের উন্নয়নে স¤পৃক্ত করতে পারলে দেশ যেমন সম্বৃদ্ধ হবে তেমনি দেশের সাথে স¤পর্কও থাকবে, যেমনটি করছে ভারত, চীন, মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের আরো অনেক দেশ । ভারত আমেরিকা থেকে ভারতীয় আমেরিকানদের ফিরিয়ে নিয়ে তাদের আইটি সেক্টরকে সম্বৃদ্ধ করেছে। ভারতের পথ অনুসরন করছে চীন মালয়েশিয়াসহ বিশ্বের আরো কয়েকটি দেশ। মালয়েশিয়াতে কোন পদে লোক নিয়োগের প্রয়োজন হলে সেখানে থাকে তাদের প্রবাসীদের একটি কোটা, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে মালয়েশিয়া তার প্রবাসীদের বিভিন্ন পদে নিয়োগ দিয়ে থাকে। জাতির জনকের স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়েতে হলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা এনআরবিদের কাজে লাগাতে হবে। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা দেশকে তথ্যপ্রযুক্তির উন্নয়নে বেশ গুরুত্ব দিয়েছেন, বৃটেনেই রয়েছে ব্রিটিশ বাংলাদেশী নবপ্রজন্মের কয়েক হাজার আইটি ¯েপশালিষ্ট যারা গত কয়েক বছরে বৃটেনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে বেরিয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন হল ২০২১ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে একটি মধ্যম আয়ের দেশে পরিনত করা ও ২০৪১ সালে বাংলাদেশ হবে বিশ্বের একটি উন্নত সম্বৃদ্ধশালী দেশ। আইয়ুব করম আলী বলেন, দেশের সাথে প্রবাসী সন্তান তথা এনআরবিদের স¤পর্ক ধরে রাখতে হলে রেমিটেন্স থেকে নলেজ ট্রান্সপারের উপর গুরুত্ব দিতে হবে। বৃটেন বা আমেরিকা থেকে যেসব এনআরবি সন্তানেরা বিভিন্ন সেক্টরে উচ্চ শিক্ষা নিয়ে বের হচেছ তারা মেধাবি, সৎ এবং এনারজেটিক তাদের কাছ থেকে আশানুরুপ সার্ভিস পাওয়া সম্ভব যা দেশের উন্নয়নের কাজে লাগবে।

About HK Nasir

Director & Editor: Allbdnews24.com

Check Also

ফার্মের মুরগি মানবদেহে রোগ ছড়াচ্ছে

অলবিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডেস্ক:: বেঁচে থাকার তাগিদেই প্রতিদিনি আমরা খাবার খাই। কিন্তু এই খাবারই যে আবার …

রাজধানীতে বাস চাঁপায় ৩ শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু: অবরোধ-ভাঙচুর

ছাতক মিডিয়া সেন্টার ডেস্ক:: রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাস থামানোর চেষ্টাকালে একদল কলেজশিক্ষার্থীর ওপর যাত্রীবাহী বাস …

সিলেটে ইতিহাসের ধারাবাহিকতা

  পৌরসভা হিসেবে সিলেট শহরের যাত্রা ১৮৭৮ সালে। ২০০২ সালে সিটি করপোরেশনে উন্নিত হয় ১২৪ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Thanks For Visit Our Site