সোমবার , জুলাই ১৬ ২০১৮
Breaking News
Home / ইসলামিক / মাগরীবের আযান ও ইক্বামতের মাঝখানে দেরী করাঃ হানাফী উলামায়ে কেরামের রায়।
for Call: 01741616874

মাগরীবের আযান ও ইক্বামতের মাঝখানে দেরী করাঃ হানাফী উলামায়ে কেরামের রায়।

মাগরীবের আযান ও ইক্বামতের মাঝখানে দেরী করাঃ হানাফী উলামায়ে কেরামের রায়।

মাওলানা মুহম্মদ সদরুল আমিন জগন্নাথপুরী

এ অধ্যায়ে দুইটি বিষয় আলোচনার যোগ্য। প্রথমটি হলোঃ মাগরীবের আযানের পরে জামাত শুরু করতে দেরী করা যা আমাদের মসজিদগুলোতে করা হয়।

দ্বিতীয়টি হলোঃ মাগরীবের আযান ও ইক্বামতের মধ্যখানে নফল নামায আদায় করা। আলোচ্য প্রবন্ধে আমরা প্রথম বিষয়টিই আলোচনা করবো। আর দ্বিতীয় বিষয়টি পরবর্তী প্রবন্ধে উল্লেখ করবো। কমেন্টস বক্সে দ্বিতীয় বিষয়টি টানবেন না। ইনশাআল্লাহ অচিরেই দ্বিতীয় বিষয়টি নিয়ে পোস্ট করবো।

তাহলে আসুন আমরা বিষয়টি নিয়ে উলামায়ে আহনাফের রায় দেখে নিই। পরে আমারা একটু ব্যাখ্যা উল্লেখ করবো।

০১. ছাহিবুল হেদায়া ইমাম বুরহানুদ্দীন রাহিমাহুল্লাহ (ইন্তেকাল ৫৯৩ হিজরী) বলেন,

ويجلس بين الأذان والإقامة إلا في المغرب وهذا عند أبي حنيفة رحمه الله وقالا يجلس في المغرب أيضا جلسة خفيفة لأنه لا بد من الفصل إذ الوصل مكروه ولا يقع الفصل بالسكتة لوجودها بين كلمات الأذان فيفصل بالجلسة كما بين الخطبتين ولأبي حنيفة رحمه الله أن التأخير مكروه فيكتفى بأدنى الفصل احترازا عنه والمكان في مسألتنا مختلف وكذا النغمة فيقع الفصل بالسكتة ولا كذلك الخطبة وقال الشافعي رحمه الله يفصل بركعتين اعتبارا بسائر الصلوات والفرق قد ذكرناه قال يعقوب رأيت أبا حنيفة رحمه الله يؤذن في المغرب ويقيم ولا يجلس بين الأذان والإقامة وهذا يفيد ما قلناه وأن المستحب كون المؤذن عالما بالسنة. (الهداية شرح بداية المبتدي ط دار احياء التراث العربي ، ج١ ص٤٤ ، ادارة القران والعلوم الاسلامية باكستان ، ج١ ص٢٧٩- ٢٨٠)

অনুবাদঃ মাগরীব ছাড়া অন্য সময় আযান ও ইকামতের মাঝে কিছু সময় অপেক্ষা করবে। এ হলো ইমাম আ’জম আবু হানীফার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) অভিমত। ছাহেবাইন বলেন, স্বল্পক্ষণ অপেক্ষা করবে। কেননা আযান ও ইকামতে ব্যবধান করা আবশ্যক আর উভয়কে মিলিয়ে দেয়া মাকরূহ। আর স্বর-বিরতি ব্যবধান বলে গণ্য হবেনা। কেননা তা তো আযানের বাক্য গুলোর মাঝেই বিদ্যমান। সুতরাং স্বল্পক্ষণ বসা দ্বারা ব্যবধাণ করতে হবে। যেমন দুই খুতবাহ’র মাঝে হয়ে থাকে।
ইমাম আ’জম আবু হানীফার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) দলিল হলো; (মাগরীবে) বিলম্ব মাকরূহ। সুতরাং তা পরিহার করার জন্য নূন্যতম ব্যবধানই গণ্য হবে। পক্ষান্তরে খুতবাহ সেরূপ নয়।
ইমাম শাফেঈ (রঃ) অন্যান্য ছালাতের উপর ক্বিয়াস করে বলেন, দুই রাকাত নফলের মাধ্যমে ব্যবধান করতে হবে। আর অন্য ছালাত হতে মাগরীবের পার্থক্য আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি।

আমাদের সাথে থাকার জন্য ধন্যবাদ

ইমাম ইয়াকুব (আবু ইউসূফ) রাহিমাহুল্লাহ বলেন, ইমাম আ’জম আবু হানীফাকে (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) আযান ও ইক্বামত দিতে দেখেছি। তিনি আযান ও ইক্বামতের মাঝে বসতেন না। আমরা যা বলেছি এটি তার সমর্থন করে (অর্থাৎ মাগরীবের আযান ও ইক্বামতের মাঝখানে বসা যাবেনা)। আর এতে এ-ও প্রমাণীত হয় যে, মুআযযিনের জন্য সুন্নত বিষয়ে ইলম থাকা মুস্তাহাব। (আল হিদায়া-শরহু বেদায়াতুল মুবতাদী, ইহইয়াউত তুরাস, ১ম জিলদ, ৪৪ নং পৃষ্ঠা, ইদারাতুল কুরআন ওয়াল উলূমিল ইসলামিইয়্যাহ, ১ম জিলদ, ২৭৯-৮০)

০২. ইমাম শায়খ ফরিদুদ্দীন আলম ইবনুল আলা আদ দেহলবী রাহিমাহুল্লাহ (ইন্তেকাল ৭৮৬ হিজরী) বলেন,

ولم يعتبر الفصل في المغرب بالصلاة ، لان الفصل في المغرب [يؤدى إلى تأخير المغرب عن اول وقته ، وهو مكروه ، وإذا لم يفصل بالصلاة في المغرب] بما ذا يفصل ؟ قال أبو يوسف و محمد رحمهما الله : بفصل بجلسة خفيفة ، وقال أبو حنيفة رحمه الله : يفصل بالسكوت ، وفي الخلاصة : وقال الشافعي رحمه الله : يفصل بركعتين خفيفتين اعتبارا بسائر الصلوات ، ثم عند أبي حنيفة رحمه الله : مقدار السكتة ، ما يقرأ فيه ثلاث قصار أو اية طويلة ، وروى عنه انه قال : مقداره ما يخطو ثلاث خطوات ، وعندهما مقدار ما يجلس الخطيب بين الخطبتين من غير أن يطول ، ويمكن مقعده على الارض. (الفتاوى التاتارخانية ، ج٢ ص١٤٧ – ٤٨)

অনুবাদঃ মাগরীবে (আযান ও ইক্বামতে) নামাযের দ্বারা পার্থক্য করবেনা। কেননা মাগরীবের সময় প্রথম ওয়াক্ত থেকে দেরী করা মাকরূহ। তাহলে (আযান ও ইক্বামতের মধ্যখানে নামায ব্যতীত) কিরূপে পার্থক্য করবে ?
ইমাম আবু ইউসূফ ও ইমাম মুহাম্মাদ রাহিমাহুমুল্লাহ বলেন, ছোট একটি বৈঠকের মাধ্যমে পার্থক্য করবে। পক্ষান্তরে ইমাম আ’জম আবু হানীফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, স্বর-বিরতীর দ্বারাই পার্থক্য হবে। খুলাছা কিতাবে আছে, ইমাম শাফেয়ী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, অন্যান্য ওয়াক্তের মত দু’রাকাত নামাযের দ্বারা পার্থক্য করা হবে। আর ইমাম আবু হানীফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র নিকট ছোট তিন আয়াত কিংবা বড় এক আয়াত তেলাওয়াত করতে যতটুকু সময় লাগে ঠিক ততটুকু পরিমাণ সময়ই হলো ‘সাকতাহ’। আর ইমাম আবু হানীফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু হতে এটাও বর্ণিত হয়েছে যে, তিন কদম হাটা পরিমাণ পার্থক্য করবে। আর ছাহেবাইনের নিকট দুই খুতবাহ’র মাঝখানে স্বল্প সময় বসা সমপরিমাণ বিলম্ব হবে। উনাদের নিকট ফ্লোরে বসলেও বসতে পারবে। (আল ফাতাওয়া আত তাতারখানিয়াহ ২য় জিলদ, ১৪৭ ও ১৪৮ নং পৃষ্ঠা)

০৩. ছাহিবুল বাহর ইমাম যাইনুদ্দীন বিন ইবরাহীম বিন মুহাম্মাদ আল মা’রূফু বি ইবনে নুজাইম আল হানাফী রাহিমাহুল্লাহ (ইন্তেকাল ৯৭০ হিজরী) বলেন,

(قَوْلُهُ : وَيَجْلِسُ بَيْنَهُمَا إلَّا فِي الْمَغْرِبِ) أَيْ وَيَجْلِسُ الْمُؤَذِّنُ بَيْنَ الْأَذَانِ وَالْإِقَامَةِ عَلَى وَجْهِ السُّنِّيَّةِ إلَّا فِي الْمَغْرِبِ فَلَا يُسَنُّ الْجُلُوسُ بَلْ السُّكُوتُ مِقْدَارَ ثَلَاثِ آيَاتٍ قِصَارٍ أَوْ آيَةٍ طَوِيلَةٍ أَوْ مِقْدَارِ ثَلَاثِ خُطُوَاتٍ وَهَذَا عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ وَقَالَا يَفْصِلُ أَيْضًا فِي الْمَغْرِبِ بِجِلْسَةٍ خَفِيفَةٍ قَدْرَ جُلُوسِ الْخَطِيبِ بَيْنَ الْخُطْبَتَيْنِ وَهِيَ مِقْدَارُ أَنْ تَتَمَكَّنَ مَقْعَدَتُهُ مِنْ الْأَرْضِ بِحَيْثُ يَسْتَقِرُّ كُلُّ عُضْوٍ مِنْهُ فِي مَوْضِعِهِ. وَالْأَصْلُ أَنَّ الْوَصْلَ بَيْنَهُمَا فِي سَائِرِ الصَّلَوَاتِ مَكْرُوهٌ إجْمَاعًا لِحَدِيثِ بِلَالٍ (اجْعَلْ بَيْنَ أَذَانِك وَإِقَامَتِك قَدْرَ مَا يَفْرُغُ الْآكِلُ مِنْ أَكْلِهِ) غَيْرَ أَنَّ الْفَصْلَ فِي سَائِرِ الصَّلَوَاتِ بِالسُّنَّةِ أَوْ مَا يُشْبِهُهَا لِعَدَمِ كَرَاهِيَةِ التَّطَوُّعِ قَبْلَهَا وَفِي الْمَغْرِبِ كُرِهَ التَّطَوُّعُ قَبْلَهُ فَلَا يَفْصِلُ بِهِ. ثُمَّ قَالَ الْجِلْسَةُ تُحَقِّقُ الْفَصْلَ كَمَا بَيْنَ الْخُطْبَتَيْنِ وَلَا يَقَعُ الْفَصْلُ بِالسَّكْتَةِ؛ لِأَنَّهَا تُوجَدُ بَيْنَ كَلِمَاتِ الْأَذَانِ وَلَمْ تُعَدَّ فَاصِلَةً. وَقَالَ أَبُو حَنِيفَةَ : إنَّ الْفَصْلَ بِالسَّكْتَةِ أَقْرَبُ إلَى التَّعْجِيلِ الْمُسْتَحَبِّ وَالْمَكَانُ هُنَا مُخْتَلِفٌ؛ لِأَنَّ السُّنَّةَ أَنْ يَكُونَ الْأَذَانُ فِي الْمَنَارَةِ وَالْإِقَامَةُ فِي الْمَسْجِدِ وَكَذَا النَّغْمَةُ وَالْهَيْئَةُ بِخِلَافِ خُطْبَتَيْ الْجُمُعَةِ لِاتِّحَادِ الْمَكَانِ وَالْهَيْئَةِ فَلَا يَقَعُ الْفَصْلُ إلَّا بِالْجِلْسَةِ، وَفِي الْخُلَاصَةِ وَلَوْ فَعَلَ الْمُؤَذِّنُ كَمَا قَالَا لَا يُكْرَهُ عِنْدَهُ وَلَوْ فَعَلَ كَمَا قَالَ لَا يُكْرَهُ عِنْدَهُمَا يَعْنِي أَنَّ الِاخْتِلَافَ فِي الْأَفْضَلِيَّةِ وَبِمَا تَقَرَّرَ عُلِمَ أَنَّهُ يُسْتَحَبُّ التَّحَوُّلُ لِلْإِقَامَةِ إلَى غَيْرِهِ مَوْضِعَ الْأَذَانِ وَهُوَ مُتَّفَقٌ عَلَيْهِ وَعُلِمَ أَنَّ تَأْخِيرَ الْمَغْرِبِ قَدْرَ أَدَاءِ رَكْعَتَيْنِ مَكْرُوهٌ. (البحر الرائق ، ط دار الكتاب الاسلامي ج١ ص٢٧٥ ، العلمية ج١ ص٤٥٤ – ٥٥)

অনুবাদঃ (মুছান্নিফের কথা ‘মাগরীব ছাড়া আযান ও ইক্বামতের মাঝখানে মুআযযিন বসবে’) অর্থাৎ, আযান ও ইক্বামতের মাঝখানে মুআযযিন বসবে সুন্নত পদ্ধতিতে কিছুক্ষণ বসবে, তবে মাগরীবে বসবেনা কেননা মাগরীবে বসে অপেক্ষা করা সুন্নত নয়; বরং স্বর বিরতী দেবে। আর সাকতাহ বা স্বর বিরতী হলো, তিনটি ছোট আয়াত (ক্বেছারে মুফাচ্ছাল হতে) অথবা দীর্ঘ্য একটি আয়াত (তিওয়ালে মুফাচ্ছাল হতে) তেলাওয়াত করা পরিমাণ সময় (দাঁড়িয়ে) অপেক্ষা করা। অথবা তিন ক্বদম চলতে যত সময় প্রয়োজন ততটুকু অপেক্ষা করা। আর এটা ইমাম আ’জম আবু হানীফার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) অভিমত। আর ছাহেবাইন বলেন, স্বল্পক্ষণ বসে আযান ও ইক্বামতে পার্থক্য করবে। আর তার পরিমাণ হলো, খতীবের দুই খুতবাহ’র মধ্যখানের বিরতী পরিমাণ। আর এর পরিমাণ হলো, বসার আসন হতে সকলেই যাতে ঠিক মত দাঁড়াতে পারে। আর প্রতিটি নামাযের আযান ইক্বামত মিলিয়ে দেয়া সকলের ঐকমত্যে (ইজমা অনুযায়ী) মাকরূহ হওয়ার আছল হলো, হাদীসে বিলাল রাদ্বিয়াল্লাল্লাহু আনহু اجْعَلْ بَيْنَ أَذَانِك وَإِقَامَتِك قَدْرَ مَا يَفْرُغُ الْآكِلُ مِنْ أَكْلِهِ “তোমার আযান ও ইক্বামতে ততটুকু পার্থক্য করো, যাতে যে কেহ তার খাবার শেষ করতে সক্ষম হয়”। এছাড়াও প্রতিটি নামাযে (আযান ও ইক্বামতের মাঝখানে) সুন্নত নামায দ্বারা পার্থক্য করা অথবা তার তাশবীহ তথা (দুই রাকাত) নফল পড়া পরিমাণ সময় বসা কিংবা নফল পড়া কোনটিই মাকরূহ নয়; কিন্তু মাগরীব তার বিপরীত এসময় নফল পড়া মাকরূহ। সুতরাং তাতে বিরতী নেবেনা। অতঃপর তিনি বলেন, বসা দ্বারা দুই খুতবাহ’র মাঝখানে বসা পরিমাণ সময়ই বুঝাবে সাকতাহ বা স্বর বিরতীতে পার্থক্য হবেনা। কেননা তা আযানের কালেমাতেই বিদ্যমান রয়েছে। কিন্তু এটাকে ফছল বা পার্থক্য ধরা হয়না। আর ইমাম আবু হানীফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, নিশ্চয়ই সাকতাহ বা স্বর বিরতী দ্বারা পার্থক্য করা মুস্তাহাব ওয়াক্তে নামায আদায়ের অধিক নিকটবর্তী। আর এখানে স্থানও পৃথক, কেননা মিনার (মসজিদের বাহিরে উঁচু স্থানে) আযান দেয়া এবং ইক্বামত মসজিদে দেয়া সুন্নত। এখানে স্বর বিরতী ও স্থান পরিবর্তন জুমুআর খুতবাহ’র বিপরীত। কেননা তাতে স্থান ও অবস্থা এক হওয়ায় একটি বৈটক ছাড়া পার্থক্য প্রয়োজন নেই। খোলাছা কথা হলো, মুআযযিন যদি একটু দেরীই করেন কিংবা একটু তাড়াতাড়িই ইক্বামত দিয়ে ফেলেন তাতে ইমাম ছাহেব কিংবা ছাহেবাইন কারোর মতেই মাকরূহ হবেনা, কেননা এখানে এখতেলাফ হলো উত্তমতা নিয়ে। সুতরাং জানা গেল যে, মুস্তাহাব হলো- আযানের স্থান হতে ইক্বামতের স্থানে এসে ইক্বামত দেয়া। আরোও জানা গেল যে, দুই রাকাত নামায আদায় করা যায় এমন পরিমাণ সময় দেরী করা মাকরূহ। (আল বাহরুর রায়েক, দারুল কিতাবিল ইসলামী ১/২৭৫, DKI ১/৪৫৪-৫৫)

০৪. আছহাবু ফাতাওয়া আল হিন্দিইয়্যাহ রাহিমাহুমুল্লাহ বলেন,

وَأَمَّا إذَا كَانَ فِي الْمَغْرِبِ فَالْمُسْتَحَبُّ يَفْصِلُ بَيْنَهُمَا بِسَكْتَةٍ يَسْكُتُ قَائِمًا مِقْدَارَ مَا يَتَمَكَّنُ مِنْ قِرَاءَةِ ثَلَاثِ آيَاتٍ قِصَارٍ. هَكَذَا فِي النِّهَايَةِ فَقَدْ اتَّفَقُوا عَلَى أَنَّ الْفَصْلَ لَا بُدَّ مِنْهُ فِيهِ أَيْضًا. كَذَا فِي الْعَتَّابِيَّةِ. وَاخْتَلَفُوا فِي مِقْدَارِ الْفَصْلِ فَعِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ رَحِمَهُ اللَّهُ الْمُسْتَحَبُّ أَنْ يَفْصِلَ بَيْنَهُمَا بِسَكْتَةٍ يَسْكُتُ قَائِمًا سَاعَةً ثُمَّ يُقِيمُ، وَمِقْدَارُ السَّكْتَةِ عِنْدَهُ قَدْرُ مَا يُمْكِنُ فِيهِ مِنْ قِرَاءَةِ ثَلَاثِ آيَاتٍ قِصَارٍ أَوْ آيَةٍ طَوِيلَةٍ وَعِنْدَهُمَا يَفْصِلُ بَيْنَهُمَا بِجَلْسَةٍ خَفِيفَةٍ مِقْدَارَ الْجِلْسَةِ بَيْنَ الْخُطْبَتَيْنِ وَذَكَرَ الْإِمَامُ الْحَلْوَانِيُّ الْخِلَافَ فِي الْأَفْضَلِيَّةِ حَتَّى إنَّ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ رَحِمَهُ اللَّهُ إنْ جَلَسَ جَازَ وَالْأَفْضَلُ أَنْ لَا يَجْلِسَ وَعِنْدَهُمَا عَلَى الْعَكْسِ. كَذَا فِي النِّهَايَةِ . (الفتاوى الهندية ، ط دار الفكر و البولاق ج١ ص٥٧ ، دار الكتب العلمية ج١ ص٦٣)

অনুবাদঃ আর যখন মাগরিবের সময় হবে তখন মুস্তাহাব হলো, তিন আয়াতে ক্বেছার কিংবা এক আয়াতে তিওয়াল তেলাওয়াত করা যায় এমন সময় পরিমাণ দাঁড়িয়ে থাকার মাধ্যমে (আযান ও ইক্বামতে) তফাত করবে (এটা ইমাম ছাহেবের অভিমত), এটা নেহায়া কিতাবে আছে। আর আযান ও ইক্বামতে পার্থক্য করা জরূরী এ ব্যাপারে সকলেই ঐকমত্য হয়েছেন, এটা ইতাবিয়া কিতাবে আছে। আর ইমাম আবু হানীফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু’র নিকট এক সাকতাহ পরিমাণ দাঁড়িয়ে থেকে ইক্বামত বলবে। আর ছোট তিন আয়াত কিংবা বড় এক আয়াত তেলাওয়াত করতে যতটুকু সময় লাগে ঠিক ততটুকু পরিমাণ সময়ই হলো ‘সাকতাহ’। আর ছাহেবাইনের নিকট স্বল্পক্ষণ বসে পার্থক্য করবে। আর তার পরিমাণ হলো, দুই খুতবাহ’র মাঝখানের বৈটক। আর ইমাম হালওয়ানী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, এই এখতেলাফ উত্তমতা নিয়ে। সুতরাং ইমাম আবু হানীফার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) মতে বসে অপেক্ষা করাও জায়েজ, তবে না বসা উত্তম। ছাহেবাইনের অভিমত ঠিক তার বিপরীত। (দাঁড়িয়ে অপেক্ষা জায়েজ, তবে বসা উত্তম)। এ অভিমত নেহায়া কিতাবে আছে। (ফাতাওয়া আলমগীরী, বুলাক প্রিন্টার্সের ছাপা ১/৫৭, DKI ১/৬৩)

০৫. আল্লামা আব্দুর রাহমান আল জাযিরী রাহিমাহুল্লাহ (ইন্তেকাল ১৩৬০ হিজরী) বলেন,

الفصل بين الأذان والإقامة : أولاً : يسن للمؤذن أن يجلس بين الأذان والإقامة بقدر ما يحضر الملازمون للصلاة في المسجد مع المحافظة على وقت الفضيلة، إلا في صلاة المغرب، فإنه لا يؤخرها، وإنما يفصل بين الأذان والإقامة فيها بفاصل يسير كقراءة ثلاث آيات، وهذا الحكم عند الشافعية، والحنفية.(الفقه على المذاهب الاربعة، ط دار اكتب العلمية ، ج١ ص ١٩٤ – ٩٥)

অনুবাদঃ আযান ও ইক্বামতে পার্থক্য করাঃ প্রথমতঃ আযান ও ইক্বামতের মাঝখানে মুআযযিনের জন্য সুন্নত হলো, মুছল্লীগণ মুস্তাহাব ওয়াক্তে নিরাপদে এসে জামাতে শরীক হতে পারে এতটুকু পরিমাণ সময় বসে অপেক্ষা করা। তবে মাগরীবের ওয়াক্ত তার বিপরীত কেননা তাতে দেরী করা যায়না। আর এ সময় তিন আয়াত পড়া পরিমাণ সময় অপেক্ষা করে আযান ও ইক্বামতে তফাত করবে। আর এ হুকুম হলো, শাফেয়ী ও হানাফী মাযহাবের। (আল ফিক্বহু আলাল মাযাহিবিল আরবাআহ ১ম জিলদ ১৯৪ ও ১৯৫ নং পৃষ্ঠা)

০৬. মুফতীয়ে আউয়াল দারুল উলুম দেওবন্দ মাওঃ আযীযুর রহমান উসমানী রাহিমাহুল্লাহ বলেন,

ان روایات کتب فقہ سے معلوم ہوا کہ مغرب کی اذان و تکبیر کی درمیان کوئی نماز نہ پڑہنی چاہئے ۔ اور نیز معلوم ہوا کہ جس قدر وقفہ اذان کے بعد دعا ماثورہ پڑہنے اور تحول من موضع الاذان الی موضع الاقامۃ میں ہوتا ہے وہ کافی ہے ۔ اور وصل مکروہ کو رافع ہے اور ظاہر ہے کہ تین آیات قصار نصف منٹ سے بہی کم میں پڑہ سکتے ہیں ۔ (فتاوی دار العلوم دیوبند ج۲ ص۳۸-۳۹)

অনুবাদঃ ফিক্বহের কিতাবের উপরুক্ত রেওয়ায়াত সমূহ হতে বুঝা যায় যে, (তিনি শামী কিতাবের কিছু ইবারত উল্লেখ করছেন) মাগরীবের আযান ও ইক্বামতের মাঝখানে কোন নামায না পড়া উচিত। আর তাও জানা গেল যে, আযানের পর দুআ (দরূদ শরীফ ও দুআয়ে আযান) শেষ করে আযানের জায়গা হতে (মিনার হতে) ইক্বামতের স্থানে আসতে যতটুকু সময় লাগে (আযান ও ইক্বামতের মাঝখানে ততটুকু) পার্থক্যই যথেষ্ট। আর আযান ইক্বামতে পার্থক্য না করাটা মাকরূহ। আর তিন আয়াতে কেছার আধা মিনিটের কম সময়েই সম্পন্ন হয়ে যায়। (ফতওয়া দারুল উলুম, ২/৩৮-৩৯)

০৭. মুফতী সাইয়্যিদ আব্দুর রহীম ছাহেব লাজপুরী দেওবন্দী রাহিমাহুল্লাহ বলেন,

الجواب : مغرب کی اذان ختم کر کے چہوٹی تین آیتیں پڑہیں اتنی دیر بیٹہے (جیسا کہ دو خطبوں کی بیچ میں بیٹہتے ہیں) یا اس قدر کہڑا رہ کر اقامت کہے ۔ چہت سے آتر نے میں اتنا وقت ہو جاتا ہے ۔ لہذا کوئی حرج نہیں ۔ تا ہم وقفہ کر کے اقامت کہے تو بہتر ہے ۔ (فتاوی رحیمیہ ج۴ ص۹۳)

অনুবাদঃ মাগরীবের আযানের পর ছোট তিন আয়াত পড়া যায় পরিমাণ বসবে, যেমনঃ দুই খুতবাহ’র মাঝখানে মিম্বরে বসা হয়। অথবা ততটুকু সময় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করে ইক্বামত বলবে। ছাদ বা মিনার হতে (মসজিদের ভেতরে) আসার মাধ্যমে এতটুকু সময় হয়ে যায়। ছাদ বা মিনার হতে এসেই যদি ইক্বামত বলে তাতেও অসুবিধা নেই তবে এসে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে (অপেক্ষার সময় উপরে দেয়া আছে) ইক্বামত বলাটা ভাল। (ফতওয়া রহিমিয়া, ৪/৯৩)

০৮. মুফতী মুহাম্মাদ কেফায়াতুল্লাহ দেওবন্দী রাহিমাহুল্লাহ বলেন,

مغرب کی اذان و اقامت میں اتصال نہ کرنا چا ہئیے تہوڑا سا فرق ضروری ہے مقدار فرق میں اختلاف ہے امام ابو حنیفہ رح کے نزدیک تین چہوٹی آیتوں کے برابر ہونا چاہئیے اور امام ابو یوسف و امام محمد رح کے نزدیک اس قدر بیٹہنا چاہئیے جس قدر دو خطبوں کے درمیان بیٹہتے ہیں ۔ (کفایۃ المفتی ج۳ ص۶۱)

অনুবাদঃ মাগরীবের আযান ও ইক্বামতে মিলিয়ে দেয়া ঠিক নয়; সামান্য পার্থক্য করা জরূরী। পার্থক্য করার পরিমাণ নিয়ে এখতেলাফ আছে। ইমাম আবু হানিফা রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু বলেন, ছোট তিন আয়াত তেলাওয়াত করা যায় এতটুকু অপেক্ষা করবে। আর ছাহেবাইন বলেন, দুই খুতবাহ’র মাঝখানে যতটুকু বসা হয় ঠিক ততটুকুই বসবে। (কেফায়াতুল মুফতী, ৩/৬১)

০৯. মুফতী মাহমুদ হাসান গাঙ্গুহী রাহিমাহুল্লাহ বলেন,

اتنا وقفہ کرلینا کہ موذن اذان سے فارغ ہو کر صف میں پنچ جائے اور اذان کے بعض دعا بہی پوری ہو جائے ۔ جب موذن موجود ہو تو بہتر ہے کہ وہی تکبیر کہے یا دوسرے کو اجازت دیدے ۔ (فتاوی محمودیۃ ج۵ ص۳۴۳)

অনুবাদঃ এতটুকু অপেক্ষা করবে যাতে মুআযযিন আযান শেষ করে নামাযের কাতারে আসতে পারেন এবং আযানের দুআ শেষ করেন। যখন মুআযযিন উপস্থিত হয়ে যাবেন তখন হয় তিনি ইক্বামত বলবেন নতুবা অন্যকে ইক্বামত বলার অনুমোতি প্রদান করবেন। (ফতওয়া মাহমুদিয়া, ৫/৩৪৩)

** উপরুক্ত আলোচনা হতে আমরা বুঝতে সক্ষম হলাম যে, হানাফী উলামায়ে কেরাম একথার উপর একমত যে, মাগরীবের আযানের পর ইক্বামতের পূর্বে স্বল্পক্ষণ অপেক্ষা করেই ইক্বামত বলবেন। উল্লেখ্য, ইমাম ছাহেব এবং ছাহেবাইন রাহিমাহুমুল্লাহ এখানে সময় ও ধরণ নিয়ে দ্বিমত পোষণ করেছেন। ইমাম ছাহেবের মতে ছোট তিন আয়াত বা বড় এক আয়াত পড়া যায় এতটুকু সময় দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করবে। পক্ষান্তরে ছাহেবাইন রাহিমাহুমুল্লাহ বলেছেন, দুই খুতবাহ’র মাঝখানের বিরতি পরিমাণ বসে অপেক্ষা করবে।

এখানে আমরা তেমন কোন মতবিরূধ লক্ষ করছিনা। বরং তাদের কথাগুলো প্রায় সমপর্যায়ের। আর মূলতঃ এ এখতেলাফ আফজলিয়ত নিয়েই হয়েছে। সুতরাং আমরা পূর্বে উল্লেখিত ইমাম হালওয়ানী রাহিমাহুল্লাহ’র রায়টা মেনে নিলেই উনাদের এখতেলাফের হাকিকত বুঝতে সক্ষম হবো। যেমন তিনি বলেছেন,

وَذَكَرَ الْإِمَامُ الْحَلْوَانِيُّ الْخِلَافَ فِي الْأَفْضَلِيَّةِ حَتَّى إنَّ عِنْدَ أَبِي حَنِيفَةَ رَحِمَهُ اللَّهُ إنْ جَلَسَ جَازَ وَالْأَفْضَلُ أَنْ لَا يَجْلِسَ وَعِنْدَهُمَا عَلَى الْعَكْسِ. كَذَا فِي النِّهَايَةِ . (الفتاوى الهندية ، ط دار الفكر و البولاق ج١ ص٥٧ ، دار الكتب العلمية ج١ ص٦٣)

অনুবাদঃ আর ইমাম হালওয়ানী রাহিমাহুল্লাহ বলেন, এই এখতেলাফ উত্তমতা নিয়ে। সুতরাং ইমাম আবু হানীফার (রাদ্বিয়াল্লাহু আনহু) মতে বসে অপেক্ষা করাও জায়েজ, তবে না বসা উত্তম। ছাহেবাইনের অভিমত ঠিক তার বিপরীত। (দাঁড়িয়ে অপেক্ষা জায়েজ, তবে বসা উত্তম)। এ অভিমত নেহায়া কিতাবে আছে। (ফাতাওয়া আলমগীরী, বুলাক প্রিন্টার্সের ছাপা ১/৫৭, DKI ১/৬৩)

কিন্তু এতটুকু পরিমাণ অপেক্ষা ঘড়ীর কাটায় ১ মিনিটের মত হবে। যদিও দারুল উলুম দেওবন্দে উল্লেখ আছে, اور ظاہر ہے کہ تین آیات قصار نصف منٹ سے بہی کم میں پڑہ سکتے ہیں “আর তিন আয়াতে কেছার আধা মিনিটের কম সময়েই সম্পন্ন হয়ে যায়”। এটা কেমনে বলেছেন উনিই জানেন!

আমাদের কথা হলো, আযান মসজিদের বাহিরে উঁচু স্থানে দেয়াই সুন্নত। যেমন আল বাহরুর রায়েক কিতাবে তা উল্লেখ আছে, لِأَنَّ السُّنَّةَ أَنْ يَكُونَ الْأَذَانُ فِي الْمَنَارَةِ وَالْإِقَامَةُ فِي الْمَسْجِدِ “কেননা আযান মিনারে (মসজিদের বাহিরে উঁচু স্থানে) দেয়া এবং ইক্বামত মসজিদে দেয়া সুন্নত”। সুতরাং মুআযযিন মিনার হতে আযান দিয়ে আসতে যত সময় লাগে ততটুকু সময় অপেক্ষা করাতে কোনই সমস্যা নেই। প্রয়োজনে মসজিদের ভেতরে আযান দেয়া বন্ধ করে দিলেই হয়; আযান মিনারেই দেয়া হবে। তাতে আইয়িম্মায়ে কেরামের রায় মানতে সহজ হবে।

এ বিষয়ে ‘ফতওয়া রহিমিয়া’-তে সুন্দর সমাধান বিদ্যমান। যেমন তিনি বলেছেন,

چہت سے آتر نے میں اتنا وقت ہو جاتا ہے ۔ لہذا کوئی حرج نہیں ۔ تا ہم وقفہ کر کے اقامت کہے تو بہتر ہے ۔ (فتاوی رحیمیہ ج۴ ص۹۳)

অনুবাদঃ ছাদ বা মিনার হতে এসেই যদি ইক্বামত বলে তাতেও অসুবিধা নেই তবে এসে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে (অপেক্ষার সময় উপরে দেয়া আছে) ইক্বামত বলাটা ভাল। (ফতওয়া রহিমিয়া, ৪/৯৩)

‘ফতওয়া মাহমুদিয়া’র বক্তব্যে আরোও ক্লিয়ার হয়। যেমন তিনি বলেছেন,

اتنا وقفہ کرلینا کہ موذن اذان سے فارغ ہو کر صف میں پنچ جائے اور اذان کے بعض دعا بہی پوری ہو جائے ۔ (فتاوی محمودیۃ ج۵ ص۳۴۳)

অনুবাদঃ এতটুকু অপেক্ষা করবে যাতে মুআযযিন আযান শেষ করে নামাযের কাতারে আসতে পারেন এবং আযানের দুআ শেষ করেন। (ফতওয়া মাহমুদিয়া, ৫/৩৪৩)

এবার তাহলে বিষয়টি একদম সহজ হয়ে গেল ! মুআযযিন আযান শেষ করে মসনূন তরীকায় দুআ করবেন। অর্থাৎ, প্রথমে সংক্ষিপ্ত দরূদ শরীফ পড়ে তারপর আযানের দুআ পড়বেন। উল্লেখ্য, হেটে হেটে দুআ পড়ার জরূরত নেই। দুআ শেষ করে তিনি স্থান ত্যাগ করবেন (ঘরের দরওয়াজা বন্ধ করবেন এবং তালাবদ্ধ করবেন)। অতঃপর স্বাভাবিক গতিতে মসজিদে আসবেন।

বিবেকবান যারা রয়েছেন তারা হিসেব করে নেবেন, এখানে কয় মিনিট প্রয়োজন! আমার হিসেবে দেড়/দুই মিনিটের কমে তা হবেনা। সুতরাং যারা মসজিদের ভেতরে আযান দেন! আপনারা এই দেড়/দুই মিনিট অপেক্ষা করলে কোনই অসুবিধা নেই। এর কমে সমস্যা হবে তাও আবার বলছিনা। অর্থাৎ অপেক্ষা করলে তা যেন দেড়/দুই মিনিটের বেশী না হয়!

** বেশী দেরী করা মাকরূহঃ এখন আমাদেরকে জানতে হবে কতটুকু দেরী করলে মাকরূহ হবে? এটা কোন ধরণের মাকরূহ? এ নিয়ে উলামায়ে কেরামের রায় কি? উনারা কি সবাই বিষয়টিতে একমত?

সহজ জবাব হলো- না, এখানেও উনাদের এখতেলাফ পরিলক্ষিত হয়। আমাদের নিকট অধিক গ্রহণ যোগ্য অভিমত হলো, দুই রাকাত নামায আদায় করা যায় পরিমাণ সময় অপেক্ষা করা মাকরূহে তানযিহী।

আমাদের দলিল হলো, ‘আদ দুররুল মুখতার’ কিতাবের নিম্নোক্ত ইবারত। ছাহিবুদ দুররুল মুখতার বলেন,

تَعْجِيلُ (مَغْرِبٍ مُطْلَقًا) وَتَأْخِيرُهُ قَدْرَ رَكْعَتَيْنِ يُكْرَهُ تَنْزِيهًا. (الدر المختار ط العلمية ، ص٥٤)
অনুবাদঃ শীত ও গরম উভয় সময়ে মাগরীবে দুই রাকাত নামায পড়া যায় পরিমান সময় বিলম্ব করা মাকরূহে তানযিহী। (আদ দুররুল মুখতার ৫৪ নং পৃষ্ঠা)

কিন্তু আল্লামা শামী রাহিমাহুল্লাহ এক্ষেত্রে ভিন্ন মত পোষণ করেছেন। আর দেওবন্দী আলেম মাওলানা রশীদ আহমদ ছাহেব তো উনার আহসানুল ফাতাওয়ায় আরেকটু অতিরিক্তই বলেছেন! যেমন তিনি বলেন,

اصل جواب تو یہ ہے کہ نماز مغرب میں اتنی تاخر کرنا جس میں دو رکعت ادا کی جا سکیں بالاتفاق بلا کراہت جائز ہے اس سے زیادہ تاخیر میں اختلاف ہے، عند البعض بلا کراہت جائز ہے اور بعض کے نزدیک مکروہ تنزیہی ہے، البتہ اتنی تاخیر کہ ستارے چمک لگیں بالاتفاق مکروہ تحریمی ہے ۔

অনুবাদঃ মূল জবাব তো হলো, মাগরীবের আযানের পর ইক্বামতের আগে দুই রাকাত নামায পড়া যায় এতটুকু দেরী করা সকলের ঐকমত্যে বিনা কেরাহিয়তে জায়েজ!!
এর থেকে দেরী করাতে এখতেলাফ রয়েছে। কারো মতে বিনা কেরাহিয়তে জায়েজ আবার কারো মতে মাকরূহ তানযিহী! কিন্তু যদি এতটুকু দেরী করা হয় যাতে তারাগুলো চমকাতে থাকে তাহলে সকলের ঐকমত্যে মাকরূহ তাহরীমী। (আহসানুল ফাতাওয়া, ২/১৩৮)

* তবে মাওলানা সাহেবের বক্তব্যের সমর্থন ‘ফাতাওয়া শামী’-তেও বিদ্যমান। যেমন শামী কিতাবে আছে,

قَوْلُهُ : (لِكَرَاهَةِ تَأْخِيرِهِ) الْأَوْلَى تَأْخِيرُهَا أَيْ الصَّلَاةِ، وَقَوْلُهُ : (إلَّا يَسِيرًا) أَفَادَ أَنَّهُ مَا دُونَ صَلَاةِ رَكْعَتَيْنِ بِقَدْرِ جَلْسَةٍ، وَقَدَّمْنَا أَنَّ الزَّائِدَ عَلَيْهِ مَكْرُوهٌ تَنْزِيهًا مَا لَمْ تَشْتَبِكْ النُّجُومُ. (رد المحتار ، دار الفكر ج١ ص٣٧٦ ، دار عالم الكتب ج٢ ص٣٨)

অনুবাদঃ {তাঁর (হাছকাফী রাঃ) কথা মাগরীবে দেরী করা মাকরূহ} অর্থাৎ নামায দেরীতে আদায় করা উত্তম। (আর তাঁর কথাঃ সামান্য সময় ছাড়া এর অর্থ হলো) দুই রাকাত নামায আদায় পরিমাণ সময় বসে থাকার ফায়দা দেয়। যা আমরা পূর্বে উল্লেখ করেছি, নিশ্চয় তারকা প্রকাশ পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করা মাকরূহ তানযিহী। (শামী ১/৩৭৬)

এখানে আল্লামা শামী রাহিমাহুল্লাহ’র ব্যাখ্যাটি আমার নিকট অত্যধিক কঠিণ মনে হচ্ছে। কারণ উনার বক্তব্য পূর্বের সকল বক্তব্যের সাথেই সাংঘর্ষিক। সুতরাং উনার বক্তব্যের বিপরীতে ইমাম ইবনে নুজাইম আল হানাফী রাহিমাহুল্লাহ’র বক্তব্যই আমল যোগ্য। যেমন তিনি বলেছেন, وَعُلِمَ أَنَّ تَأْخِيرَ الْمَغْرِبِ قَدْرَ أَدَاءِ رَكْعَتَيْنِ مَكْرُوهٌ. “আরোও জানা গেল যে, দুই রাকাত নামায আদায় করা যায় এমন পরিমাণ সময় দেরী করা মাকরূহ”।

* আল্লামা শামী রাহিমাহুল্লাহ’র বক্তব্য “দুই রাকাত নামায পড়া যায় পরিমাণ দেরী তো অবশ্যই মাকরূহ নয়; এমনকি তারকা প্রকাশ পাওয়া পর্যন্ত দেরী করা ‘মাকরূহে তানযীহী”- এটা স্বয়ং মুছান্নিফ দ্বয়ের রায়ের সাথেও সাংঘর্ষিক। অবশ্য তিনি ভিন্ন দলিলে এটাকে প্রমাণের চেস্টা করেছেন।

আমরা এবার ইমাম তুমারতাশী ও ইমাম হাছকাফী রাহিমাহুমুল্লাহ (ইন্তেকাল যথাক্রমে ১০০৪ ও ১০৮৮ হিজরী) দেখবো। উনারা বলেছেন,

(وَ) أَخَّرَ (الْمَغْرِبَ إلَى اشْتِبَاكِ النُّجُومِ) أَيْ كَثْرَتِهَا (كُرِهَ) أَيْ التَّأْخِيرُ لَا الْفِعْلُ لِأَنَّهُ مَأْمُورٌ بِهِ (تَحْرِيمًا) إلَّا بِعُذْرٍ كَسَفَرٍ، وَكَوْنِهِ عَلَى أَكْلٍ. (الدر المختار شرح تنوير الابصار وجامع البحار ، ط العلمية ، ص٥٤)

অনুবাদঃ আর তারকা প্রকাশ পেয়ে যায় অর্থাৎ তারকার সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়ে যায় এমন পরিমান সময় দেরী করে মাগরীব আদায় করা মাকরূহে তাহরীমী হবে। তবে সফর, অসুস্থতা কিংবা খাবার গ্রহণ (যদি অত্যধিক ক্ষুধা থাকে এবং খাবার সামনে হাজির থাকে) সহ জরূরী কোন উযর থাকে তবে মাকরূহ হবেনা। (আদ দুররুল মুখতার ৫৪ নং পৃষ্ঠা)

উপরুক্ত আলোচনার পর আমরা এ সিদ্ধান্তেই উপনীত হলাম যে, হানাফী মাযহাবের রায়ের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে দেড়/দুই মিনিটের উপরে দেরী না করাই উচিত। শামীর বক্তব্যের উপর আমল করতে হলে অনেক ঝামেলার সৃষ্টি হবে। তাই মুস্তানাদ কিতাব গুলোর রায়ের উপর সন্তুষ্ট থাকাই উচিত।

আরেকটি কথা মনে রাখা দরকার যে, মাগরীবের আযান ও ইক্বামতের মধ্যখানে নফল পড়া মাকরূহ এ নিয়ে এখতেলাফ সৃষ্টি হয়নি। মূল এখতেলাফ নামাযের মুস্তাহাব ওয়াক্ত এবং মাগরীবের শেষ সময় নিয়েই সৃষ্টি হয়েছে।

* রমাদ্বান শরীফে দেরী করা প্রসঙ্গঃ রমাদ্বান শরীফে খাবার শেষ করা পর্যন্ত দেরী করা যাবে। বরং ক্ষুধার হালতে খাবার শেষ করেই নামায আদায় করতে হবে। নাহয় নামায মাকরূহ তাহরীমী হবে।

** শামী কিতাবে বর্ণিত হয়েছে,

(قَوْلُهُ: وَكَوْنِهِ عَلَى أَكْلٍ) أَيْ لِكَرَاهَةِ الصَّلَاةِ مَعَ حُضُورِ طَعَامٍ تَمِيلُ إلَيْهِ نَفْسُه. (رد المحتار ، دار الفكر ج١ ص٣٧١)

অনুবাদঃ (মুছান্নিফের কথাঃ দেরী করার কারণ খাবার গ্রহণ) খাবার সামনে আসার পর যদি ক্ষুধা বেশী হয় তবে খাবার গ্রহণ না করে নামায আদায় করা মাকরূহে তাহরীমী হবে। (শামী ১/৩৭১)

* আহসানুল ফতওয়ায় আছে,

رمضان میں بہوک لگی ہو اور کہانا ہو تو پندرہ بیس منٹ تک تاخیر میں کوئی مضائقہ نہیں ، اس لئے کہ یہ تاخیر زیادہ سے زیادہ مکروہ تنزیہی ہے اور بہوک کی حالت میں کہانے کی موجود گی میں نماز پڑہنا مکروہ تحریمی ہے ، لہاذا کہانے سے فارغ ہو کر اطمینان و فراغ قلب کے ساتہ نماز پڑہنا چاہئے ۔ (احسن الفتاوی ج۲ ص۱۳۸)

অনুবাদঃ কিন্তু রমাদ্বান শরীফে মানুষের ক্ষুধা থাকে এবং খাবারও রেডি থাকে তাই এসময় ১৫/২০ মিনিট দেরী করাতে কোন অসুবিধা নেই। এখানে এই দেরী করায় অতিরিক্ত থেকে অতিরিক্ত মাকরূহ তানযিহী হবে আর ক্ষুধার সময় খাবার সামনে রেখে নামায পড়া মাকরূহ তাহরীমী। তাই খাবার শেষ করে এতমিনানের সাথে নামায আদায় করা প্রয়োজন। (আহসানুল ফাতাওয়া, ২/১৩৮)

এখানেও খাবার গ্রহণ শেষ হয়ে গেলে আর অপেক্ষা করা যাবেনা। তাই যারা মসজিদে ইফতার করবেন তারা স্বাভাবিক গতিতে ইফতার করতে যতটুকু সময় প্রয়োজন হয় ঠিক ততটুকু সময়ই অপেক্ষা করবেন। বিষয়টি আরোও অনেক কিতাবেই আছে। কলেবর বৃদ্ধির আশংকায় আর উল্লেখ করলাম না।

মহান রাব্বে করীম আল্লাহপাক আমাদেরকে সহিহ সমঝ দান করুন। আমিন!

About HK Nasir

Director & Editor: Allbdnews24.com

Check Also

আলো ব্লাড এন্ড সোশ্যাল ফাউন্ডেশনের ২০১৮-১৯সালের ৫১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন:

  কাজী রেজাউল করিম রেজা:: আলো ব্লাড এন্ড সোশ্যাল ফাউন্ডেশনের ২০১৮-২০১৯ সালের দু’ বছর মেয়াদি …

সাকিব কে নিয়ে যা বললেন লক্ষ্ণনঃ

সাকিব অনেক ঠান্ডা মেজাজের অ্যাটাকিং বোলার’ –   সোমবার রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালোরকে পাঁচ রানে হারিয়েছে …

উচ্চ শিক্ষা অর্জন করতে চায় সাংবাদিক কন্যা তাহমীনাঃ

♥   কাজী রেজাউল করিম রেজা:: ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারে বিজ্ঞান বিভাগে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Thanks For Visit Our Site