সোমবার , মে ২১ ২০১৮
Breaking News
Home / ইসলামিক / তারাবীর নামাজের রাকাত সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি নিরসন:
for Call: 01741616874

তারাবীর নামাজের রাকাত সংখ্যা নিয়ে বিভ্রান্তি নিরসন:

কিছু মানুষ তারাবীহ নামাজ ৮ রাকাত না ২০ রাকাত এ নিয়ে মুসলমানদের মধ্যে মতপার্থক্য সৃষ্টি করে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ইসলামের সূচনা কালে হযরত ওমর রাঃ খেলাফত কালে তারাবিহর নামাজ বিশ রাকাত আদায় করা হত। সাহাবাদের মধ্যে আনছার মোহাজিরদের ঐক্যমতের ভিত্তিতে ও তাবেয়ীনগণের যুগে এবং ইসলামের স্বনামধন্য ইমামগণ যেমন ইমাম আবু হানিফা র:, ইমাম মালেক র:,ইমাম শাফেয়ী রহ:,ইমাম আহমদ (রহ.) সবাই বিশ রাকাত

তারাবিহর পক্ষে ছিলেন।

(আল মুদাওওয়ানাতুল কুবরা, ইমাম মালেক ১/১৯৩)।

হজরত ওমর রাঃ এর খেলাফত আমল থেকে আজ অবধি পবিত্র মক্কা-মদিনাসহ মুসলিম বিশ্বের প্রায় জায়গায় ২০ রাকাত তারাবীহ পড়া হয়ে থাকে।

ইমাম বোখারী রঃ বিশ রাকাত তারাবীহ আদায় করতেন (আত তারীখুল কাবীর লিখক ইমাম বোখারী পৃঃ ২৮)

, ইমাম মুসলিম রঃ সহ সকল হাদীসের গ্রন্থ প্রণেতা দের মাঝে কেউ ৮ রাকাত তারাবী পড়েছে বলে প্রমাণ নেই।

১২৮০ হিঃ পূর্বে বিশ্বের কোথাও ৮ রাকাত তারাবীর জামাত অনুষ্ঠত হয়নি এবং এই মতের পক্ষেও কেউ কলম ধরেনি।

আবার অনেকে একটু চালাকি করে বলতে চান তাহাজ্জুদ আর তারাবীহ এক। ইহাও অমুলক কারণ, যদি এক হতো তাহলে ইমাম বোখারী রঃ সহ হাদীসের কিতাব গুলোতে তারাবীহ আর তাহাজ্জুদ এর জন্য আলাদা অধ্যায় প্রণয়ন করতেন না।

১. ইমাম ইবনু আব্দিল বার রহ. (মৃত : ৪৬৩হিঃ) বলেন,

وَهُوَ – عِشْرُونَ رَكْعَة – الصَّحِيحُ عَنْ أُبَيِّ بْنِ كَعْبٍ مِنْ غَيْرِ خِلَافٍ مِنَ الصَّحَابَةِ.

অর্থ: এটাই সহীহ যে, হযরত উবাই ইবনে কা‘ব ২০ রাকাত তারাবীহ পড়িয়েছেন। আর তাতে কোন সাহাবী দ্বিমত করেননি। [আল ইসতিযকার ৫/১৫৭]

قَالَ ابْنُ عَبْدِ الْبَرِّ وَهُوَ قَوْلُ جُمْهُورِ الْعُلَمَاءِ وَهُوَ الِاخْتِيَارُ عِنْدَنَ!

অর্থ: তিনি আরো বলেন, এটিই (২০ রাকাত তারাবীহ) অধিকাংশ উলামায়ে কেরামের মত এবং আমাদের নিকট এটিই পছন্দনীয়। [তারহুত তাছরীব ৩/৯৭]

২. ইমাম তিরমিযী রহ. (মৃত : ২৬৯হিঃ) বলেন,

وَأَكْثَرُ أَهْلِ العِلْمِ عَلَى مَا رُوِيَ عَنْ عُمَرَ، وَعَلِيٍّ، وَغَيْرِهِمَا مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ عِشْرِينَ رَكْعَةً، وَهُوَ قَوْلُ الثَّوْرِيِّ، وَابْنِ المُبَارَكِ، وَالشَّافِعِيِّ وقَالَ الشَّافِعِيُّ: >وَهَكَذَا أَدْرَكْتُ بِبَلَدِنَا بِمَكَّةَ يُصَلُّونَ عِشْرِينَ رَكْعَةً

অর্থ: সংখ্যাগরিষ্ঠ উলামায়ে কেরামের মত সেটাই যা বর্ণিত আছে হযরত উমর, হযরত আলী রা. ও অন্যান্য সাহাবায়ে কেরাম থেকে। অর্থাৎ ২০ রাকাত। এটিই ইমাম সুফয়ান সাওরী, ইবনুল মুবারক ও শাফেয়ী রহ. এর মত। ইমাম শাফেয়ী বলেন, আমাদের শহর মক্কা মুর্কারামায় আমি এমনটিই পেয়েছি যে, তারা ২০ রাকাত তারাবীহ পড়তেন। [ তিরমিযী শরীফ ৩/১৬০]

৩. ইবনে রুশদ মালেকী রহ. (মৃত : ৫৯৫) বলেন,

اخْتَارَ مَالِكٌ فِي أَحَدِ قَوْلَيْهِ، وَأَبُو حَنِيفَةَ، وَالشَّافِعِيُّ، وَأَحْمَدُ، وَداود: الْقِيَامَ بِعِشْرِينَ رَكْعَةً سِوَى الْوِتْرِ

অর্থ: ইমাম মালেক রহ. এর এক বক্তব্য অনুযায়ী এবং ইমাম আবু হানীফা, ইমাম শাফিয়ী, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল ও ইমাম দাঊদ এর বক্তব্য হচ্ছে বিতর ছাড়া তারাবীহ ২০ রাকাত। [বিদায়াতুল মুজতাহিদ : ১/২১৯]

৪. ওয়ালী উদ্দিন ইরাকী রহ. (মৃত : ৮২৬) বলেন,

وَبِهَذَا أَخَذَ أَبُو حَنِيفَةَ وَالثَّوْرِيُّ وَالشَّافِعِيُّ وَأَحْمَدُ وَالْجُمْهُورُ وَرَوَاهُ ابْنُ أَبِي شَيْبَةَ فِي مُصَنَّفِهِ عَنْ عُمَرَ وَعَلِيٍّ وَأُبَيٍّ وَشُتَيْرِ بْنِ شَكَلٍ وَابْنِ أَبِي مُلَيْكَةَ وَالْحَارِثِ الْهَمْدَانِيُّ وَأَبِي الْبَخْتَرِيِّ

অর্থ: ২০ রাকাত তারাবীর মতই গ্রহণ করেছেন ইমাম আবু হানীফা, ইমাম সাওরী, ইমাম শাফেয়ী, ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল এবং অধিকাংশ উলামা। ইমাম ইবনে আবি শাইবা রহ. ‘আল মুসান্নাফ’ গ্রন্থে এ মতই বর্ণনা করেছেন হযরত উমর, হযরত আলী, হযরত উবাই ইবনে কা‘ব, শুতাইর ইবনে শাকাল, ইবনে আবী মুলাইকা, হারেস আল হামদানী ও আবুল বাখতারী থেকে। [তরহুত তাসরীব ৩/৯৭]

বর্তমান যুগের কথিত আহলে হাদীসদের আদর্শিক মুরব্বি ইবনে তাইমিয়া

৫. ইবনে তাইমিয়া(মৃত : ৭২৮হিঃ) বলেন,

إِنَّهُ قَدْ ثَبَتَ أَنَّ أبي بْنَ كَعْبٍ كَانَ يَقُومُ بِالنَّاسِ عِشْرِينَ رَكْعَةً فِي قِيَامِ رَمَضَانَ وَيُوتِرُ بِثَلَاثِ. فَرَأَى كَثِيرٌ مِنْ الْعُلَمَاءِ أَنَّ ذَلِكَ هُوَ السُّنَّةُ؛ لِأَنَّهُ أَقَامَهُ بَيْن الْمُهَاجِرِينَ وَالْأَنْصَارِ وَلَمْ يُنْكِرْهُ مُنْكِرٌ

অর্থ: নিশ্চয় এ কথা প্রমাণিত আছে যে, হযরত উবাই ইবনে কা‘ব রা. লোকদের (সাহাবা ও তাবিয়ীদের) নিয়ে রমজান মাসে ২০ রাকাত তারাবীহ ও ৩ রাকাত বিতর পড়তেন। এ জন্যই সংখ্যাগরিষ্ঠ উলামায়ে কেরামের মত হচ্ছে এটিই সুন্নত। কারণ, তিনি এ নামাজ পড়িয়েছেন আনসার ও মুহাজির সাহাবীদেরকে নিয়ে, তাদের কেউ এর উপর কোন আপত্তি উত্থাপন করেননি। [মজমূউ ফাতাওয়া ইবনে তাইমিয়া ২৩/১১।

৬. আব্দুল্লাহ ইবনে মুহাম্মদ ইবনে আব্দুল ওয়াহ্হাব (মৃত : ১২৪২হিঃ) বলেন,

وعمر رضي الله عنه لما جمع الناس على أبي بن كعب كانت صلاتهم عشرين ركعة

অর্থ: উমর রা. যে তারাবীহ নামাজে উবাই ইবনে কা‘ব রা. এর পিছনে সকলকে একত্রিত করেছিলেন তা ছিল ২০ রাকাত। [মাজমুআতুর রাসাইল ওয়াল মাসাইলিন নাজদিয়্যাহ ১/৯৫।

৮ রাকাত দাবী কারিদের দলিলের পর্যালোচনা।

=========<==============

আবু সালামা ইবনে আব্দুর রহমান থেকে বর্ণিত, তিনি আম্মাজান আয়েশা (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলেন , রমজানে রাসুল (সাঃ) এর নামাজ কেমন ছিল? উত্তরে তিনি বললেন , রাসুল (সাঃ) রমজানে ও অন্যান্য মাসে বিতির সহ এগার রাকআতের বেশী পড়তেন না।

(বুখরী শরীফ হাঃ নং ১১৪৭)

দ্বিতীয় হাদীসঃ-

ইয়াহইয়া ইবনে আবু সালামা (রঃ) বলেন আমি রাসুল (সঃ) এর রাত্রী কালীন নামাজ সম্পর্কে আয়েশা (রাঃ) কে জিজ্ঞেস করলাম । উত্তরে তিনি বললেন, রাসুল(সঃ) রাত্রে তের রাকআত নামাজ আদায় করতেন।

প্রথমে আট রাকাত পড়তেন , এর পর বিতির

পড়তেন, তার পর দুই রাকত নামাজ বসে

আদায় করতেন । ( মুসলিম শরীফ- হাঃ নং ১৭২৪)

এজাতীয় হাদীস দ্বারা বর্তমনে কিছু ভায়েরা তারাবীহ ৮ রাকাত এর উপর দলীল পেশ করে থাকে।

উপরোক্ত হাদীস সমূহের উত্তরঃ-

========================

প্রথম উত্তর:

=========

আয়েশা (রাঃ) থেকে উপরোক্ত হাদীস দুটি যেমনি ভাবে সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে ঠিক তেমনি মুসলিম শরীফেই আয়েশা (রাঃ) থেকে দশ রাকাতের হাদীস ও বর্ণিত আছে। যেমন: হাদীসঃ-

কাসেম ইবনে মুহাম্মদ থেকে বর্ণিত তিনি বলেন , আমি আয়েশা (রাঃ) কে বলতে শুনেছি যে, রাসুল (সাঃ) রাত্রিতে দশ রাকাত নামাজ, এক রাকাত বিতির ,ও ফজরের দুই রাকাত সুন্নত সহ মোট ১৩ রাকাত পড়তেন।

( মুসলিম শরীফ- হাঃ নং ১৭২৭)

এমন কি আয়েশা (রাঃ) থেকে বর্ণিত হদীস

গুলোর প্রতি লক্ষ্য করলে বোঝা যায় রাসুল (সাঃ) রাত্রীকালীন নামাজ- কোন রাত্রীতে ১১ রাকাত ,কখনো ১৩ রাকাত কখনো ৯ রাকাত, আবার কখনো ৭ রাকাত ও, আদায় করতেন । সুতরাং আয়েশা (রাঃ) এর হাদীস দ্বারা কোন সংখ্যা নির্দিষ্ট করা সম্পুর্ন অযৌক্তিক।

দ্বিতীয় জবাবঃ

==========

হযরত ওমর রাঃ এর খেলাফত কালে মসজিদে নববীতে মানুষদের কে ভিন্ন ভিন্ন ভাবে তারাবীর নামাজ পড়তে দেখে হযরত উবাই বিন কা’ব এর ইমামতিতে তারাবীর জামাত শুরু করলেন(বোখারী শরীফ হাঃ নং ২০১০)

 

তা বিশ রাকাত এর জামাত ছিলো যা উপরে ছহিহ হাদীস এবং আছার দ্বারা প্রমাণ করেছি। যদি হযরত আয়েশা রাঃ এর হাদীস গুলো তারাবীর হাদীস হতো তাহলে নিশ্চয় হযরত আয়েশা রাঃ বিশ রাকাত তারাবীর জামাতের বিরূধিতা করতেন। অথচ হযরত আয়েশা রাঃ বিরূধিতা করেন নাই।

হযরত ওমর রা: মসজিদে নববীতে

সাহাবি উবাই বিন কাবকে রা: ইমাম

নিযুক্ত করে ২০ রাকাত তারাবির

প্রচলন করেছেন ১৫ হিজরীতে।

নবীজির ইন্তেকালের পর হযরত আয়শা

রা: ৪৮ বছর বেঁচে ছিলেন।৪৩ বছর যাবৎ

তাঁর মসজিদে নববীর পাশে থেকে চোখের সামনে ২০

রাকাত তারাবির নামাজ আদায় করা

হতো। তিনি কোনদিন বলেননি,হে

ওমর! তারাবীহ ২০ রাকাত নয়, ৮ রাকাত।

তাহলে বর্তমান কিছু লোক কি হযরত ওমর রাঃ উছমান রাঃ আলী রাঃ থেকেও বড় আহলে হাদীস হয়ে গেলো?

মুল কথা হলো আয়েশা রাঃ হাদীস গুলো তাহাজ্জুদ সংক্রান্ত যার বিধান এসেছে মক্কায় সুরা মুযাম্মিল নাযেল হওয়ার দ্বারা। আর তারাবীহ এর বিধান হলো মদীনায়।

 

আল্লাহ্ তায়ালা আমাদের কে সঠিক ভাবে বুঝার এবং আমল করার তাউফিক দিন আমীন।

About HK Nasir

Director & Editor: Allbdnews24.com

Check Also

উচ্চ শিক্ষা অর্জন করতে চায় সাংবাদিক কন্যা তাহমীনাঃ

♥   কাজী রেজাউল করিম রেজা:: ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ বহুমূখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এবারে বিজ্ঞান বিভাগে …

গাইবান্ধার পলাশবাড়ীতে সাংবাদিক কণ্যা তুবার এসএসসিতে জিপিএ-৫ লাভ

  অলবিডি নিউজ ডেস্ক:: নিজের পরিবারের বৃহৎ বিপর্যয় ও অর্থিক অসঙ্গতি সহ বেশকিছু প্রতিকুলার মধ্যে …

টেইলারী পেশায় থেকেও A-পেয়েছে ছাতকের নাজমুলঃ

  ছাতক (গোবিন্দগঞ্জ) প্রতিনিধি:: ছাতকের গোবিন্দগঞ্জের বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে A- পেয়েছে তকিপুর গ্রামের সিরাজ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Thanks For Visit Our Site