সোমবার , অক্টোবর ২২ ২০১৮
Breaking News
Home / ইসলামিক / এবার পিচ টিভি নিয়ে তাসলিমা নাসরিন।তাহার কি স্বার্থ??
for Call: 01741616874

এবার পিচ টিভি নিয়ে তাসলিমা নাসরিন।তাহার কি স্বার্থ??

বিতাড়িত শয়তান তসলিমা নাসরিনের জাঁকির নায়েকের পিস টিভির জন্যে দরদ উথলে উঠতোনা। যাইহোক তাসলিমার সম্পূর্ণ বক্তব্য নিচে তুলে ধরলাম মতামত আপনারা কমেন্টে দিবেন।

তসলিমা নাসরিনঃ আমি মত প্রকাশের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করি। আমার চরম শত্রুর মত প্রকাশের অধিকারের জন্যও আমি লড়ি। জাকির নায়েকের মত প্রকাশের অধিকারেও আমি বিশ্বাস করি, কিন্তু আমি যেটাতে বিশ্বাস করি না, সেটা হলো ভায়োলেন্স। হিংস্রতা, বর্বরতা,সন্ত্রাস, নির্যাতনে আমি বিশ্বাস করি না। খুনোখুনিতে আমার বিশ্বাস নেই। জাকির নায়েক কি মুসলমানদের সরাসরি সন্ত্রাসী হওয়ার উপদেশ দিয়েছেন? উপদেশ হয়তো দেননি, কিন্তু তিনি ওসামা বিন লাদেনকে সন্ত্রাসী বলতে রাজি নন, তিনি নাইন-ইলেভেনের সন্ত্রাসীদেরও মনে করেন না সন্ত্রাসী। সন্ত্রাসী রাষ্ট্রে সন্ত্রাস করার পক্ষপাতী তিনি, সুতরাং মুসলমানদের সবারই সন্ত্রাসী হওয়া উচিত বলে তিনি মনে করেন। যে মুসলমানরা মুসলমানদের দেশে আমেরিকার বোমা ফেলা, ইসরায়েলের সঙ্গে আমেরিকার বন্ধুত্ব করাইত্যাদির ঘোরবিরোধী তারা খুব পছন্দ করে সন্ত্রাস বিষয়ে জাকির নায়েকের এই মন্তব্যগুলো। এদের মধ্যে কজন সত্যি সত্যি অস্ত্র হাতে নেয় আমি জানি না। রোহান, ইমতিয়াজ আর নিবরাস ইসলাম জাকির নায়েকের ভাষণ শুনতো কিন্তু তারা কি সন্ত্রাসী হয়েছে ওই ভাষণের কারণেই? ভাষণ যদি কিছুটা ভূমিকা রেখে থাকে তবে কতটা ভূমিকা রেখেছে? ঠিক জানি না, দুনিয়ার কজন তরুণ জাকির নায়েকের ভাষণ শুনে জঙ্গি হওয়ার আর গণহত্যা করার পরিকল্পনা করছে। যদি সন্ত্রাস তৈরিতে নায়েকের কোনো ভূমিকা না থাকে, তবে জাকির নায়েকের বাকস্বাধীনতায় আমি বিশ্বাস করি। আমি তো নয়া নািসদের বাকস্বাধীনতায়ও বিশ্বাস করি। তারা কী বলতে চায় বলুক, ভায়োলেন্সের আহ্বান না দিয়ে বলে যাক। তাদের নীতি-আদর্শ যদি কারও পছন্দ হয়, গ্রহণ করবে। তসলিমা-বিরোধীদের বাকস্বাধীনতায় আমি বিশ্বাস করি, কিন্তু ততক্ষণ পর্যন্ত বিশ্বাস করি যতক্ষণ পর্যন্ত আমাকে হত্যা করার, বা আমার শরীরে আঘাত হানার জন্য ওরা আহ্বান না জানায়। মানসিক আঘাতের পরোয়া করি না আমি। অন্যের নিন্দে সমালোচনা শোনার মনের জোর সবার আছে,থাকে। ওটি নেই বলে যারা চিৎকার চেঁচামেচি করে, তারা অসৎ উদ্দেশে চিৎকার চেঁচামেচি করে। জাকির নায়েকের ভাষণ আমি শুনেছি। তিনি মূলত কোরআন থেকেই উদ্ধৃতি দেন। কোরআনকেই জ্ঞান-বিজ্ঞানের, উদারতা-মানবতার শ্রেষ্ঠ গ্রন্থ হিসেবে বিবেচনা করেন। ইসলামে পুরুষের জন্য বহুবিবাহ, বহুগামিতা, বধূ নির্যাতন, ক্রীতদাসী-সঙ্গমের অনুমতি আছে, এসবকেও নানা যুক্তি দাঁড় করিয়ে তিনি মেনে নেন। জাকির নায়েকের চেয়েও হাজার গুণে ভয়ঙ্কর মোল্লা-মৌলানা আছেন, ভাষণ দিচ্ছেন বিভিন্ন পাড়ায় মহল্লায়, মসজিদে মাদ্রাসায়, ওয়াজ মাহফিলে,ইসলামী জলসায়। ওসব শুনে নির্ঘাত মাথা নষ্ট হচ্ছে প্রচুর মানুষের। ওইসব মোল্লা-মৌলানা অধিকাংশই নারীবিরোধী, মানবাধিকারবিরোধী, গণতন্ত্রবিরোধী। জাকির নায়েক যত না মুসলমানদের নষ্ট বানান, তারও চেয়ে বেশি বানান ওইসব মোল্লা-মৌলানা। জাকির নায়েকের পিস টিভি বন্ধ হলে মৌলানাদের মুখ তো বন্ধ হচ্ছে না। ওইসব মুখ তো চলবেই একুশ শতকের সমাজকে সপ্তম শতকে ঠেলে দেওয়ার জন্য, পেছনে, অন্ধকারে, টেনে নেওয়ার জন্য, বদ্ধ ঘরে বন্ধ করার জন্য। সরকারের কাজ ওদের ভাষণের দিকে লক্ষ রাখা, ওরা মানুষকে বর্বর হওয়ার জন্য উদ্বুদ্ধ করছে কিনা দেখা। জাকির নায়েকের বাকস্বাধীনতা যে কারণে কেড়ে নেওয়া হচ্ছে, সে কারণে এদের বাকস্বাধীনতাও কেন কেড়ে নেওয়া হবে না, তার উত্তরও চাই। নায়েক ইংরেজিতে বলেন, অন্যরা অন্য ভাষায় বলেন বলে শ্রোতা কিন্তু নেহাত কম নয়। আসলে শ্রোতা যত বেশি,বিপদ তত বেশি। বোস্টন ম্যারাথনে বোমা হামলাকারীরাও নিরীহ শ্রোতা হয়ে ঢুকেছিল বোস্টনের মসজিদে, বের হয়েছিল জঙ্গি হয়ে। মসজিদে কী শিক্ষা দিচ্ছে ইমামরা, খুতবায় কী বলা হচ্ছে,সন্ত্রাসের পক্ষে মগজধোলাই হচ্ছে কি নাকেউ কি আছে দেখার? আজকাল তো মাদ্রাসা মসজিদকে এককভাবে দায়ী করাও ঠিক নয়, যখন বড়লোকের প্রাইভেট ইস্কুল কলেজ ইউনিভার্সিটি থেকেই বেরোচ্ছে জঙ্গি!

 

জাকির নায়েক যদি বলেন তিনি সন্ত্রাসের পক্ষে আর মদদ দেবেন না, তিনি সৌদি আরব থেকে সালাফি ইসলামের আমদানি করবেন না, তিনি সুফি ইসলামের মাটিতে কট্টরবাদের চাষ করবেন না, যদি নিজের ভুল শুধরে নেন তিনি, তবে তার অধিকার থাকা উচিত আবার পিস টিভি ফিরে পাওয়ার। মুসলিম বিশ্বে যে হারে সন্ত্রাস চলছে, সতর্ক তো হতেই হবে। পিস টিভি বন্ধ করা যত না বাকস্বাধীনতা লঙ্ঘন করা, তারও চেয়ে বেশি সন্ত্রাসের লাগাম ধরা। মানবতার স্বার্থে এই কাজটি ভারত বাংলাদেশ দুদেশের সরকার করেছে। এর আগে যুক্তরাজ্য আর কানাডাও নায়েককে নিষিদ্ধ করেছে। বাকস্বাধীনতার পক্ষের অত বড় দুটো দেশ যখন কাউকে নিষিদ্ধ করলো, তার পেছনে নিশ্চয়ই বড় কোনো কারণ আছে। সব সন্ত্রাসীকে হাতে নাতে ধরা সম্ভব নয়। গোপনে কে কোথায় কার মাথায় কী ঢুকিয়ে কাকে সন্ত্রাসী বানাচ্ছে, তাও জানা সম্ভব নয়। যেটা সম্ভব এবং জঙ্গি দমনে যেটা করা উচিত সেটা হলো জঙ্গি কার্যকলাপ কোথায় চলছে না চলছে তার খবরাখবর রাখা, জঙ্গিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া। অবশ্য আমি মনে করি জঙ্গিদের শাস্তি দিয়ে সত্যিকারের জঙ্গি দমন হয় না, জঙ্গিরা কেন জঙ্গি হচ্ছেকী কথা, কী ভাবনা, কোন বই, কোন আদর্শ, কার মতবাদ, কার উৎসাহ তরুণদের জঙ্গি বানাচ্ছে তা জানতে হবে এবং সেই উৎসগুলোকে নির্মূল করতে হবে, সেগুলো টিকে থাকলে জঙ্গির জন্ম হতেই থাকবে। উৎস একেবারে নির্মূল করা সম্ভব না হলে অন্তত বদল বা বিবর্তন ঘটাতে হবে। সমাজ পরিবর্তনের ভার সব সময় সময়ের হাতে ছেড়ে দিলে কাজ হয় না। নিজেরা উদ্যোগী হয়ে পরিবর্তনগুলো ঘটিয়ে ফেলতে হয়। কোরআন হাদিস বোঝার জন্য কেন জাকির নায়েকের কাছে যেতে হয়। আরবি যাদের মাতৃভাষা নয়, তারা তো অনুবাদ পড়লেই পারেন। নিজেরা যেভাবে ধর্ম বুঝবেন,সেভাবে বোঝাই তো ভালো। নিজের মতো করে ব্যাখ্যা করলে অন্যের ব্যাখ্যার আশ্রয় নিতে হয় না। যার ধর্ম তার কাছে। আমার মা মনে করতেন ধর্ম মানেই ভালো কথা, ভালো কাজ, দরিদ্রকে দান, আর্তের সেবা, ধর্ম মানেই সাম্য, সমতা, সমানাধিকার, ধর্ম মানেই সুস্থতা, সততা, সৌন্দর্য। আমার মায়ের মতো করে সবাই যদি ধর্মের ব্যাখ্যা করে, তবে সমাজে ধর্ম দ্বারা কোনো অশান্তি সৃষ্টি হবে না। এ কথা জোর দিয়েই বলতে পারি।

About HK Nasir

Director & Editor: Allbdnews24.com

Check Also

ফার্মের মুরগি মানবদেহে রোগ ছড়াচ্ছে

অলবিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডেস্ক:: বেঁচে থাকার তাগিদেই প্রতিদিনি আমরা খাবার খাই। কিন্তু এই খাবারই যে আবার …

রাজধানীতে বাস চাঁপায় ৩ শিক্ষার্থীর মর্মান্তিক মৃত্যু: অবরোধ-ভাঙচুর

ছাতক মিডিয়া সেন্টার ডেস্ক:: রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাস থামানোর চেষ্টাকালে একদল কলেজশিক্ষার্থীর ওপর যাত্রীবাহী বাস …

সিলেটে ইতিহাসের ধারাবাহিকতা

  পৌরসভা হিসেবে সিলেট শহরের যাত্রা ১৮৭৮ সালে। ২০০২ সালে সিটি করপোরেশনে উন্নিত হয় ১২৪ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Thanks For Visit Our Site